রাজুকে পাঠানো সবশেষ মেসেজে কী লিখেছিলেন তাজমিন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনের (১৫) সঙ্গে শেষ যোগাযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তার কথিত প্রেমিক রাজু। তার দাবি, তাজমীন শেষ মেসেজে জানিয়েছিলেন, তিনি এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছেন এবং পরদিন বাড়ি ফিরবেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আটকের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন রাজু। এ সময় তাজমীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও তাদের শেষ যোগাযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তাজমীন তাকে জানান, বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছেন। তার বাবার ফোনও বন্ধ ছিল। তখন রাজু তাকে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে অথবা অন্য কারও ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরে তাজমীন এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফেরার কথা জানান বলে দাবি করেন রাজু। এরপর ভিডিও কলে তাজমীনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। এ সময় তাকে বকাঝকা করে অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে বলেন বলে জানান রাজু।
রাজুর দাবি, এরপর তাজমীন কল কেটে দিয়ে লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন। পরে তাকে একটি মেসেজ পাঠান। সেখানে লেখা ছিল, ‘তুমি চিন্তা করিও না, আমি আমার এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছি। সেখানে থেকে কাল বাসায় চলে যাব।’
রাজু আরও দাবি করেন, পরদিন সকাল ৬টার দিকে ভিডিও কলে তাজমীনকে আবারও অটোরিকশায় দেখতে পান। এ সময় চালক জানতে চান, তিনি কার সঙ্গে কথা বলছেন। তাজমীন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানানোর পর কল কেটে দেন। এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি রাজু। পরদিন এক বন্ধুর কাছ থেকে তাজমীনের মৃত্যুর খবর পান বলে জানান তিনি।
রাজুর ভাষ্য, তাজমীনের সঙ্গে তার প্রায় ছয় মাসের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে বিয়ে করার ইচ্ছাও ছিল। তাজমীনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিচার দাবি করেন তিনি।
রাজু জানান, গত ৬ অক্টোবর সকালে তাজমীন কক্সবাজার বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তিনি তাকে গ্রহণ করেন। পরে তারা কলাতলীর ‘মেঘলা’ রিসোর্টের একটি কক্ষে একদিন অবস্থান করেন। এ সময় তাজমীনের পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার ফোন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজু তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন বলে দাবি করেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, তাজমীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা রাজু স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক সিএনজিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
