মধ্যরাতে নারী চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগ শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাটে গভীর রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক নারী চিকিৎসককে হেনস্তা ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদল নেতা আবু হানিফ হানু ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। ক্যানুলা পরাতে ব্যর্থ হওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।
রোববার রাত ১২টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সাকিয়া হক রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং এ জন্য জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ হানুকে দায়ী করেন।
সাকিয়া হকের অভিযোগ, ৮ থেকে ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তার কক্ষে এসে গালিগালাজ করেন আবু হানিফ হানু। একপর্যায়ে তারা মারমুখী আচরণ করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয় রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেটব্যথা নিয়ে রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে আসেন আবু হানিফ হানু। সে সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাকিয়া হক। প্রথমে রোগীর ইসিজি করা হয়। হৃদ্রোগের লক্ষণ না পাওয়ায় গ্যাসজনিত সমস্যার চিকিৎসায় ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে গিয়ে প্রথমবার ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসক। পরে একজন ওয়ার্ড বয়ও চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর জরুরি বিভাগের কর্মীরা ক্যানুলা পরানোর কাজে অভিজ্ঞ শিশু বিভাগের নার্সদের ডাকতে যান।
সাকিয়া হকের অভিযোগ, এ সময় রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার কক্ষে ঢুকে গালিগালাজ করেন এবং বারবার মারতে উদ্যত হন। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে হাসপাতালের কর্মী ও অন্য রোগীদের স্বজনরা এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের কর্মীরা তাদের কক্ষ থেকে সরিয়ে দেন।
ফেসবুক লাইভে সাকিয়া হক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এমন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, এ ঘটনায় তারা মর্মাহত। কোনো হাসপাতালেই এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, হাসপাতালে ৫০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও অনুমোদিত পদের তুলনায় কর্মীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সীমিত জনবল নিয়েও চিকিৎসক ও কর্মীরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়নি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু হানিফ হানুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রমিকদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বাগেরহাট জেলা শ্রমিকদলের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে সরদার লিয়াকত আলী সভাপতি এবং আবু হানিফ হানু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে পাঁচ দিন পরই কেন্দ্র থেকে কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর জেলায় শ্রমিকদলের আর কোনো কমিটি গঠিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান।
বাগেরহাট জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি সরদার লিয়াকত আলী বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।
