রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে হাসপাতালে ১৬ জন, শঙ্কায় দুই কিশোরী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে রেস্টুরেন্টের বাসি-পচা বা নিম্নমানের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিংয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ১৬ জন ভোক্তা।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফুড পয়জনিংয়ের শিকার একই পরিবারের চারজনসহ ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে সুমাইয়া আক্তার ও মিম আক্তার নামের দুই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টা থেকে শনিবার (১৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব রোগীরা ভর্তি হয়। শহরের আরএফসি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসুস্থরা হলেন- মাদারীপুর শহরের ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা আক্তার (১৮), জান্নাত (১২), ফাতেমা বেগম (১৪), জেসমনি আক্তার (৩৫), পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন (৪৫), রোকসানা বেগম (৪০), নাবিল মাহামুদ (১১), পাঁচখোলা এলাকার রাবিক হোসেন (২২), তালতলা এলাকার ইব্রাহীম (১৮), ঘটমাঝি এলাকার তানিয়া (২৩), শরীফবাড়ি এলাকার লুবনা আক্তার (২৫), পূর্ব রাস্তি এলাকার আমির হাওলাদার (৯), চর কালিকাপুর এলাকার শাওন ঘরামী (১৮) ও শরীয়তপুরের মাতালমার ব্রিজ এলাকার সাইফ হোসেন (১৫)। এই ঘটনায় শহরের কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তারকে (১৫) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার 'আরএফসি রেস্টুরেন্ট'-এর খাবার খেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকেই কয়েকজন অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। পরবর্তীতে রাত ৯টার পর থেকে পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আক্রান্তরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই রেস্তোরাঁটির অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খাওয়ার কারণেই তারা গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে আরএফসি থেকে নান রুটি ও গ্রিল খেয়েছে। তারপর থেকেই খুব অসুস্থ। ১০ বার বমি করেছে। অনেকবার টয়লেটে গেছে। ছেলেটার অবস্থা ভালো না। ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছেন। বলছেন, সুস্থ হতে সময় লাগবে।’
তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার একই পরিবারের চারজন ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। আমরা চারজনই শুক্রবার আরএফসিতে খাবার খেয়েছিলাম। তারপর থেকে বমি আর পাতলা পায়খানা। সবাইকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। নিরাপদ খাদ্য আদালত ও অধিদপ্তরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে ছুটে গেছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নেব। আমার রেস্টুরেন্টের খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কিনা জানি না। তবে আমরা এরপর থেকে আরও সতর্ক হয়ে ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করবো।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘ফুড পয়জনিং নিয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে যারা ভর্তি হয়েছে, তারা বেশির ভাগই রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ রোগীরা এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা অভিযোগ দিলে, আমরা ব্যবস্থা নেব। তারপরেও বিষয়টি আমরা নজরদারি করবো। এ বিষয় আমরা ওই রেস্টুরেন্ট পরিদর্শনে যাবো। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
