বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস, জেনে নিন লিটার কত টাকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) একদিনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই- উভয় ধরনের তেলের দামই কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শুরুতে তেলের বাজারে চাপ থাকলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়তে থাকে। দিন শেষে প্রায় ৪ মার্কিন ডলার বেড়ে স্থির হয় অপরিশোধিত তেলের দাম।
শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ০৮ ডলার। দিন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ৫৫ ডলারে। অর্থাৎ একদিনে দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৭ ডলার বা প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সকালে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছিল প্রায় ৭৪ দশমিক ৬৯ ডলার। দিন শেষে তা বেড়ে ৭৮ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৯ ডলার বা প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে দৈনিক হিসাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হলেও সাপ্তাহিক হিসাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। শুক্রবারের উত্থানের পরও ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।
তেলের লিটারপ্রতি দাম কত?
আন্তর্জাতিক বেচাকেনায় এক ব্যারেলে সাধারণত ১৫৮ দশমিক ৯৮ লিটার অপরিশোধিত তেল থাকে। প্রতি মার্কিন ডলারের আনুমানিক মূল্য ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে শুক্রবারের বাজারদর অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ২৭৬ টাকা। সে হিসাবে প্রতি লিটার তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৬৫ টাকা।
অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের ব্যারেলপ্রতি দাম দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬১৬ টাকা। এতে প্রতি লিটারের দাম হয় প্রায় ৬০ দশমিক ৪৮ টাকা।
তবে এগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের অপরিশোধিত তেলের হিসাব। দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের চূড়ান্ত দামের সঙ্গে পরিবহন, পরিশোধন, কর, শুল্ক, বিপণনসহ বিভিন্ন ব্যয় যুক্ত থাকে।
হরমুজ ঘিরে কেন অস্থির তেলের বাজার?
তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই জলপথ দিয়ে বিপুলসংখ্যক তেল ও অন্যান্য জ্বালানি বহনকারী জাহাজ চলাচল করে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে ইরান এমন একটি আইন করার কথা বিবেচনা করছে, যার আওতায় মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান আলোচনা তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে ইরান-ওমানের আলোচনা এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
কোনো সমঝোতা হলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমতে পারে। বিপরীতে উত্তেজনা আরও বাড়লে সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা
