‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাদের পিটাব’ -সাংবাদিকদের মারধরের পর যুবদল নেতার হুমকি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
যুবদল নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লা। ছবি : সংগৃহীত
শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা তো তোমাদের পিটাব।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকট কাটাতে কতদিন লাগবে, জানালেন ডা. জাহেদ
সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সম্প্রতি কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয় জেলা প্রশাসন। এর প্রতিবাদে গত রোববার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
এর জেরে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে প্রথমে নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনির ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
পরে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি ও দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিধান মজুমদার অনি বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনের সহযোগিতায় কোনোমতে ঘটনাস্থল থেকে নিজেকে রক্ষা করে সরে আসি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
আরও পড়ুন: ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ১৮৪ জনের নিয়োগ
জাহিদ হাসান রনি অভিযোগ করেন, ‘জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন আমাকে মারধর করেন। পরে আমার পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ ডিলিট করতে বাধ্য করেন।’
এদিকে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুজ্জামান মোল্লা মুঠোফোনে এক সংবাদকর্মীকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কথোপকথনে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেকেই লিস্টে আছে, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে যাবে। তুমি নিজেও তৈরি থাকো, ইনশাআল্লাহ। আছো কোথায়, থাকো, আসতেছি। তোমরা লেখবা, আর আমরা তো তোমাদের পিটাব।’
শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের কথা জানালেও হামলার বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেছেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তারা এভাবে তার প্রত্যাহার চাইতে পারেন না। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসর বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন কাজ করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে ঘটনাটি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
