ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকার জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)।
মঙ্গলবার সকালে দেওয়া আইএমডির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী দুই থেকে তিন ঘণ্টায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাজধানীর অনেক এলাকায় বজ্রঝড়, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাসসহ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
সেন্ট্রাল দিল্লি, ইস্ট দিল্লি, নিউ দিল্লি, নর্থ দিল্লি, নর্থ ইস্ট দিল্লি, নর্থ ওয়েস্ট দিল্লি, শাহদারা, সাউথ দিল্লি, সাউথ ইস্ট দিল্লি, সাউথ ওয়েস্ট দিল্লি ও ওয়েস্ট দিল্লিসহ বেশ কয়েকটি জেলার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরে বর্তমানে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে যাত্রীদের জানানো হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বার্তায় বলা হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বিমানবন্দরের আশপাশে প্রতিকূল আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি।
এর আগে সোমবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ১৫টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের ১২টি জয়পুর, দুটি চণ্ডীগড় এবং একটি লখনৌ বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
যে কারণে এত বৃষ্টি
হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করে আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত বলেন, এর পেছনে প্রধানত দুই ধরনের বায়ুর মিথস্ক্রিয়া কাজ করছে। একদিকে উত্তর দিক থেকে দিল্লির দিকে শুষ্ক বাতাস প্রবেশ করছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের কাছে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ পূর্বা বাতাস দিল্লির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
তার ভাষ্য, এই দুই ধরনের বায়ুর সংঘাতে দিল্লিতে বজ্রঝড়ের সঙ্গে তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকট কাটাতে কতদিন লাগবে, জানালেন ডা. জাহেদ
এদিকে সোমবার মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই দিল্লির পাশের শহর গুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। রাজীব চক, ইফকো চক, রেলওয়ে রোড, সেক্টর ৫, ওল্ড দিল্লি রোড, মেহরৌলি রোড ও বাসাই রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়।
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে ডুবে থাকা সড়কে স্কুলবাস আটকে রয়েছে। অনেক গাড়িচালককে রাস্তায় নেমে নিজেদের গাড়ি ঠেলে এগিয়ে নিতে দেখা যায়।
বৃষ্টিজনিত ভোগান্তি বিবেচনায় গুরগাঁও প্রশাসন অফিসগুলোকে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার এবং স্কুলগুলোকে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে।
