রফাদফার অভিযোগ
মদ্যপানের পর মারামারি, যুবকের মৃত্যু
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মদ্যপানের পর মারামারিতে গুরুতর আহত আলমগীর হোসেন (২৭) নামে এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
নিহত আলমগীর হোসেন সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর খানপাড়া গ্রামের সাদেমের ছেলে। তিনি ফোর্ডনগর এলাকার আখতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: নারীর সঙ্গে বিএনপি নেতার হোটেলে ‘রাতযাপন’, ছবি ভাইরাল
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে কয়েকজনের সঙ্গে মদ্যপান করেন আলমগীর। পরে ফোর্ডনগর সড়কে আখতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরির অদূরে সুমন খা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় আলমগীর মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলমগীর আহত হওয়ার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সুমন খার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি রফাদফার মাধ্যমে মীমাংসা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চিকিৎসার খরচ ও নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ওই মীমাংসা করা হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কী শর্তে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।
এদিকে আলমগীরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহতের মেডিকেল রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মদ্যপানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুমনের বিরুদ্ধে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ দেওয়া হলেও বর্তমানে এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।
