×

ঢাকা

চার হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচল না বড় ছেলে, ছোটটি আইসিইউতে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

চার হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচল না বড় ছেলে, ছোটটি আইসিইউতে

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে এক বাবার জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতি। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে হারিয়েছেন নয় বছর বয়সী বড় ছেলেকে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটেও শেষ পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি। বড় ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে তাঁর ১০ মাস বয়সী ছোট ছেলে। হাম, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

হতভাগ্য এই বাবার নাম মোহাম্মদ কবীর। নগরীর হিলভিউ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। জীবিকার তাগিদে কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য খালাসের শ্রমিক হিসেবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কবীরের বড় ছেলে নূর মোহাম্মদ আরাফাত হিলভিউ পাবলিক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রায় ১৮ থেকে ২০ দিন আগে তার জ্বর, বমি ও কাশি শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে সাউদার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসার পর নেওয়া হয় মেরিন সিটি হাসপাতালে। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় তাকে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

তবে সেখানে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় গত সোমবার আরাফাতকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ নভেম্বর মারা যায় সে। ওই দিনই নগরীর মোমেনবাগ কবরস্থানে দাফন করা হয় শিশুটিকে।

বড় ছেলের মৃত্যুর শোক সামলে ওঠার আগেই নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন কবীর। তাঁর ১০ মাস বয়সী ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবু বক্করও আক্রান্ত হয় হাম, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়ায়। তিনটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়ার পর গত ৭ নভেম্বর সকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

ছোট ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহাম্মদ কবীর বলেন, ‘আজ সকালে আমার ছোট ছেলেটিকে দেখেছি। সে লাইফ সাপোর্টে আছে। চিকিৎসকরা কোনো আশা দিতে পারছেন না। আমি দেখছি, আমার বাচ্চাটা কথা বলতে বা নড়াচড়া করতে পারছে না, শুধু নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে। একজন বাবা আর কত সহ্য করতে পারে? আমি মাত্রই এক সন্তানকে দাফন করে ফিরেছি। অন্যজনকে হারানোর চিন্তা আমি সহ্য করতে পারছি না।’

দুই সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতোমধ্যে নিজের সব সঞ্চয় শেষ করেছেন কবীর। আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের কাছ থেকেও ঋণ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে চিকিৎসার পেছনে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে তাঁর।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পিআইসিইউ প্রধান ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দিদারুল আলম বলেন, দুই শিশুকেই অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কোনো শিশু একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হলে শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। আবু বক্করের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। তাকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন শিশু। এ ছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই পরিবারের দুই শিশুর এমন বিপর্যয় শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্রই তুলে ধরছে না, বরং ডেঙ্গু ও হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় শিশুদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘মিয়ানমারের ওপর প্রেশার তৈরি করতে হবে’

রোহিঙ্গা ইস্যু ‘মিয়ানমারের ওপর প্রেশার তৈরি করতে হবে’

নতুন কৌশলে দুর্বৃত্তরা

নতুন কৌশলে দুর্বৃত্তরা

মুরাদনগরে ছাত্রলীগ নেতা অপু গ্রেপ্তার

মুরাদনগরে ছাত্রলীগ নেতা অপু গ্রেপ্তার

এমপি হীরার গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর

এমপি হীরার গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App