অবশেষে মুখ খুললেন আমির হামজা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নারীসংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও-ভিডিও থাকার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের দেওয়া বক্তব্যকে ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর দাবি, আলেমদের সম্মানহানি করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার হাজরাদিঘী পশ্চিমপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আমির হামজা। সেখানে তিনি প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন।
নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, রাত ১০টার দিকে মঞ্চে ওঠেন আমির হামজা। তিনি এক ঘণ্টার বেশি সময় বক্তব্য দেন। মাহফিলে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, ‘ওরা আজ আলেমদের পেছনে লাগে। ওদের যদি আজ মোবাইল চেক করে দেখবেন... নাউজুবিল্লাহ। চরিত্র বলে কিছু আছে?’ এ সময় তিনি রাশেদ খাঁনের পদ ও যোগ্যতা নিয়েও সমালোচনা করেন।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, যারা মানুষের পেছনে লেগে থাকে, আল্লাহ যেন তাদের কথা বন্ধ করে দেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রিমান্ডে থাকাকালে তাঁকে মোবাইলে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কণ্ঠসদৃশ একটি অডিও শোনানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলেমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
আমির হামজা আরও বলেন, ‘এখন আবার শুরু করছে আলেমদের বিরুদ্ধে। আমিও মুসাফির অবস্থায় কোরআন সামনে নিয়ে আল্লাহর কসম, এই বগুড়ার মাটিতে বদদোয়া দিয়ে গেলাম। আমাদের সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, একটা অক্ষরের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁদের বক্তব্য থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় তিনি আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অতীতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলে ধরেন।
এর আগে, গত ৬ নভেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমির হামজার নারীসংক্রান্ত কিছু অডিও ও ভিডিও নিজের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, ফ্যাক্ট চেক করে এসব তথ্যের সত্যতা পেয়েছেন। পাশাপাশি কথোপকথনের কিছু অংশ প্রকাশ করে অডিওর লিংক মন্তব্যের ঘরে যুক্ত করার কথাও জানান তিনি।
রাশেদ খাঁনের পোস্টে প্রকাশিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে ক্ষমা চাইতে, অনুতপ্ত হতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের ওপর আমার কোনো রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, মানে কিছুই নেই। ওটুকু আমার শয়তানের ধোঁকায় হোক, নফসের জালে হোক, হয়ে যাওয়ার পরে আমি নিজেই অনুতপ্ত।’
তবে প্রকাশিত অডিওটির সত্যতা এবং এতে কথা বলা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে রাশেদ খাঁনের দাবি করা ভিডিওগুলোর বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
