‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর ৪৪তম প্রদর্শনী শুক্রবার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনের বিচার ও নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নির্মিত ইতিহাসভিত্তিক নাটক ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর ৪৪তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (১৭ জুলাই)। সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটি মঞ্চস্থ করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।
বরেণ্য নাট্যজন মাসুম আজিজের রচনা ও নির্দেশনায় এবং নাদের চৌধুরীর নব-নির্দেশনায় মঞ্চে আসা এটি ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা। নাটকটিতে সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, অম্বিকা রায়, নির্মল সেন, ব্রিটিশ ও বাঙালি আইনজীবীসহ প্রায় ৪০টি চরিত্রের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও বিচারপ্রহসনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
নাটকে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, আক্তার হোসেন, সাবিহা জামান, মামুন-উর-রশিদ, শ্যামল হাসান, খন্দকার আতিক, হাসনা হেনা শিল্পী, কাজী সম্রাট, রবিউল মিল্টন, আল-আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, তারেক আলী মিলনসহ আরো অনেকে।
নাটকটি প্রসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশকের কথা
ওদের পথ হয়তো ভুল ছিলো.. কৌশলে ত্রুটি ছিলো.. আবেগের বাড়াবাড়ি ছিলো.. তারপরও সব ছাপিয়ে মনে হয় দেশকে ভালোবেসে.. দেশের মানুষের সমষ্টিগত স্বার্থের প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত সুখ-শান্তি সব হেলায় বিসর্জন দেয়ার কি এক মহাশক্তি আর অদ্ভুত ক্ষমতা ওরা অর্জন করেছিলো..। গুলির মুখে.. ফাঁসির দড়িতে.. পুলিশের লাঠির আঘাতে.. গোয়েন্দা পুলিশ অফিসের গোপন কুঠুরীর নির্মম অত্যাচারে ওরা সময়ের আগেই বিদায় নিয়েছে.. এই সুন্দর ধরনী থেকে। সেই রক্তের.. সেই আত্মত্যাগের সুচীশুভ্র পথ ধরে ক্রমাগত হাঁটতে হাঁটতে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা..। ওদের কথা ভোলা যাবে না তো..। সৎ মূল্যটুকু যে ওদের পাওনা..।
আরো পড়ুন : প্রথমবারের মত একসঙ্গে শুভ-পায়েল
ভাবনাটার শুরু এখান থেকে। তাও প্রায় বছর দু’য়েক আগে। আমার মনে হয়েছে এতো মৃত্যু, এতো আত্মত্যাগ সবই কি এমনি এমনি..? বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত সুরত, পুঁজিবাদের নোংরা কদর্য রূপ আমাদের বারে বারে ফিরে ফিরে নিয়ে যায় একটি বিশ্বাসের কাছে। আর তা হলো সমাজতন্ত্রই মুক্তির একমাত্র পথ। জেলখানার কনডেম সেলে বসে মাষ্টারদা তাই তাঁর অর্ধসমাপ্ত আত্মজীবনীগ্রন্থ বিজয়া তে এভাবেই লিখেছিলেন। লিখেছিলেন সমাজতন্ত্রের পথই প্রকৃত পথ।
আধো আধো সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবে আমি ইতিহাসের কাছে এক ধরনের দায়বদ্ধতাও অনুভব করেছি কাজটি শুরু করবার যুক্তি হিসেবে।
এ তো গেলো ভাবনার প্রেক্ষিত। মঞ্চে কি ভাবে আনবো..? এ নিয়ে ছিলো আমার দারুন উৎকন্ঠা। শেষমেষ ভেবে দেখলাম সহজ করে সহজ কায়দায় গল্পটা বলে যাই। আমার মনে হয় দর্শক বিশ্বাস করবেন। আর আমরা তো ইতিহাসকে আশ্রয় করেছি কেবল। প্রকৃত অর্থে ইতিহাস বর্ণনা করতে চাইনি। ইতিহাস এসেছে ব্যাখ্যার প্রয়োজনে। মাষ্টারদাকে আজকের সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করানোটাই আমরা জরুরি ভেবেছি।
তারা মনে করেন, স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। ইতিহাসকে হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়, বরং বর্তমান সময়ের আলোকে মাস্টারদা সূর্যসেনের আদর্শ ও সংগ্রামকে নতুনভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরাই এই প্রযোজনার মূল লক্ষ্য। ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই নাটক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের করেছি বিচারক। বিচার করবেন গল্প আর এই প্রযোজনাটিকেও।
