বিরতির পর আবারও মঞ্চে ফিরছে আরণ্যকের ‘কম্পানি’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
দীর্ঘ ১৮ মাস বিরতির পর আবারও মঞ্চে ফিরছে দেশের অন্যতম নাট্যদল আরণ্যকের আলোচিত প্রযোজনা ‘কম্পানি’। আগামী ৪ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার (মূল হল) মঞ্চে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।
ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি, অর্থনৈতিক শোষণ এবং লুণ্ঠিত সম্পদের পাচারের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘কম্পানি’। ইউরোপীয় বণিকদের ভারতবর্ষে আগমন থেকে শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক উত্থান, বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নাটকটির মূল উপজীব্য।
নাটকে উঠে এসেছে, কীভাবে বাণিজ্যের আড়ালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বিভাজনের রাজনীতি, ষড়যন্ত্র এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় কোম্পানি বাংলার শাসনব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়ায় রবার্ট ক্লাইভের উত্থান, মীর জাফর ও জগৎশেঠকে ঘিরে ষড়যন্ত্র এবং পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনাও নাটকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন: সোনাক্ষীকে ইঙ্গিত করে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য
তবে ‘কম্পানি’ কেবল ইতিহাসের পুনর্কথন নয়। নাটকটি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে প্রশ্ন তোলে—ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও লুণ্ঠন, সম্পদ পাচার এবং অর্থনৈতিক শোষণের সংস্কৃতি কি সত্যিই শেষ হয়েছে? নাকি ভিন্ন রূপে তা এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বহমান?

নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা প্রসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই ধাপে ধাপে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছিল। ইতিহাসের সেই অভিজ্ঞতা আজও ভিন্ন রূপে বিশ্বব্যবস্থায় বিদ্যমান। বর্তমান সময়েও বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো অটুট। কারণ, দখলদারিত্ব, লুটপাট এবং লুণ্ঠিত সম্পদ বিদেশে পাচারের যে সংস্কৃতি, তা আজও নানা রূপে অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, আরণ্যক নাট্যদলের ৬৬তম প্রযোজনা হিসেবে ‘কম্পানি’ প্রথম মঞ্চস্থ হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে টানা ৫টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, সাজ্জাদ সাজু, আরিফ হোসেন আপেল, কামরুল হাসান, রুবলী চৌধুরী, সাঈদ সুমন, শাহারান খান, সুজাত শিমুল, জুবায়ের জাহিদ, মরু ভাস্করসহ আরণ্যক নাট্যদলের একদল অভিনয়শিল্পী।
