হঠাৎ ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি, নেপথ্যে যে কারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আমদানি বিল পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তঃব্যাংক বাজার, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং খোলা বাজার সব ক্ষেত্রেই ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। একই দিনে স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায়। তবে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যাংককে প্রতি ডলারের জন্য প্রায় ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কয়েকটি কারণে ডলারের ওপর চাপ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।
আরো পড়ুন : নবম পে-স্কেল: গেজেট প্রকাশে বিলম্ব, নেপথ্যে যে কারণ
এ ছাড়া আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশের আমদানি বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহও কিছুটা শ্লথ হয়েছে। গত অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পর জুন ও জুলাই মাসে প্রবাসী আয় কমে যথাক্রমে ২৮২ কোটি ও ২৮৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোও বেশি দামে ডলার সংগ্রহ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে, আন্তঃব্যাংক বাজার কিংবা রেমিট্যান্স—কোনো উৎস থেকেই যেন ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দামে ডলার কেনা না হয়।
ব্যাংকিং খাতের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খোলা বাজারেও। রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে বর্তমানে প্রতি ডলার ১২৬ টাকা থেকে ১২৬ টাকা ৪০ পয়সায় কেনা হচ্ছে এবং বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা ৭০ থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এক মাস আগেও খোলা বাজারে ডলারের দর ছিল প্রায় ১২৫ টাকার মধ্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহের মধ্যে ভারসাম্য না ফিরলে আগামী দিনেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
