বিশ্বব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’
তিনি জানান, চলমান আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি সংস্থাটির সমর্থন রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের নেওয়া নীতির সঙ্গেও বিশ্বব্যাংক একমত।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এসব বাস্তবতা উপলব্ধি করছে বলে জানান তিনি।
আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটি সম্পূর্ণ একমত।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এ নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
এদিকে, মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাস নিয়ে সরকার বিতর্ক তৈরি করতে চায় না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাজেটে উল্লেখ করা অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চললেও অর্থের ব্যবহার, ঋণের শর্ত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
