টাইব্রেকারের সমীকরণে ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে জিতবে কোন দল? সেই উত্তর মিলবে বুধবার। তবে ম্যাচের ফল ঘোষণার আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুই দলের ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং দুই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ ও জর্ডান পিকফোর্ডের সম্ভাব্য দ্বৈরথ।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই কখনোই শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ১৯৯৮ সালের নাটকীয় টাইব্রেকারের স্মৃতি। তাই এবারের সেমিফাইনালও বাড়তি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
আরো পড়ুন: স্পেনই ফেবারিট, দাবি ফ্রান্স কোচের
বিশ্বকাপে দুই দলের পাঁচটি মুখোমুখি লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ফলে আর্জেন্টিনার সামনে এবার হিসাব সমান করার পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
তবে ম্যাচ যদি নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হয়ে টাইব্রেকারে গড়ায়, তাহলে পাল্লা কিছুটা আর্জেন্টিনার দিকেই ঝুঁকতে পারে। কারণ গোলবারের নিচে থাকবেন টাইব্রেকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও ফাইনালে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিততে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
আর্জেন্টিনার হয়ে অংশ নেওয়া চারটি টাইব্রেকারের প্রতিটিতেই দলকে জয় এনে দিয়েছেন মার্তিনেজ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর পেনাল্টি সেভের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ; ২৪টি শটের মধ্যে ১১টি ঠেকিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার দক্ষতার জন্যও তিনি আলাদা পরিচিত।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডও বড় ম্যাচের পরীক্ষিত গোলরক্ষক। ইংল্যান্ডের হয়ে চারটি বড় টুর্নামেন্টের টাইব্রেকারের মধ্যে তিনটিতে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ২০২৪ ইউরোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণভিত্তিক কৌশল আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর পেনাল্টি সেভের হার প্রায় ২১ শতাংশ, যা মার্তিনেজের তুলনায় কম।
দুই গোলরক্ষকের মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। পিকফোর্ড মূলত দ্রুত রিফ্লেক্স, নিখুঁত পজিশনিং ও প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করেন। অন্যদিকে মার্তিনেজ অসাধারণ সেভের পাশাপাশি মাইন্ড গেমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সিদ্ধহস্ত। টাইব্রেকারের ক্ষেত্রে এ কারণেই তাঁকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হয়।
আরো পড়ুন: জন্মদিনে ইয়ামালের একটাই ইচ্ছা, ফ্রান্সকে হারানো
তবে ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে না গড়ায়, তাহলে মার্তিনেজের কিছু দুর্বলতা সামনে আসতে পারে। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শটে তিনি তুলনামূলক বেশি গোল হজম করেন। তাঁর ক্যারিয়ারের প্রায় ৭৫ শতাংশ গোল এসেছে বক্সের ভেতরের শট থেকে। এছাড়া মাটি ঘেঁষা (লো ড্রাইভেন) শট সামলাতেও তাঁকে মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়তে দেখা যায়।
চলতি বিশ্বকাপে মাঠের পরিসংখ্যানেও দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স বেশ কাছাকাছি। ছয়টি করে ম্যাচ খেলে দুজনই দুটি করে ক্লিন শিট রেখেছেন এবং ছয়টি করে গোল হজম করেছেন। তবে শট ঠেকানোর ক্ষেত্রে পিকফোর্ড কিছুটা বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর সেভের সংখ্যা ১২টি, যেখানে মার্তিনেজের ৮টি।
বল ডিস্ট্রিবিউশন ও রক্ষণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছেন ইংলিশ গোলরক্ষক। টুর্নামেন্টে পিকফোর্ডের সফল পাস ১৪৩টি, মার্তিনেজের ১২৬টি। এছাড়া ম্যাচপ্রতি ক্লিয়ারেন্সেও পিকফোর্ডের গড় ২.৭, যেখানে মার্তিনেজের মাত্র ০.৫।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, ওপেন প্লেতে বল বিতরণ, রক্ষণে সহায়তা ও গোলরক্ষকের আধুনিক ভূমিকায় পিকফোর্ড কিছুটা এগিয়ে। কিন্তু ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে গড়ায়, তাহলে সব হিসাব বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মার্তিনেজের অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা ও টাইব্রেকারের অসাধারণ রেকর্ড আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
