ব্রোঞ্জ জিতেও হাসি নেই, ১০ গোলের থ্রিলারে ইংল্যান্ডের জয়
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
ছব: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। কাগজে-কলমে একটি পদকের লড়াই, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল দুই ভাঙা স্বপ্নের গল্প। একদিকে স্পেনের কাছে হেরে ফাইনাল মিস করা ফ্রান্স, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ মুহূর্তে থেমে যাওয়া ইংল্যান্ড। তাই ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা যাচ্ছিল, জয় পেলেও এই আনন্দ কখনোই ফাইনালে ওঠার আনন্দের সমান হবে না।
তবে মাঠে নেমে সেই হতাশার কোনো ছাপ রাখেনি দুই দল। শুরু থেকেই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ। গোলের পর গোল। ডিফেন্ডাররা যেন ভুলেই গিয়েছিলেন কীভাবে রক্ষণ সামলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের অবিশ্বাস্য এক ম্যাচে ইংল্যান্ড ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্সকে। দর্শকরা পেয়েছেন পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ।
আরো পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশে কড়াকড়ি
ইংল্যান্ড আক্রমণে ছিল অনেক বেশি ধারালো। সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে গেছে। ফরোয়ার্ডরা ফিনিশিংয়ে ছিলেন দুর্দান্ত। মাঝমাঠও দারুণভাবে আক্রমণ গড়ে তুলেছে।অন্যদিকে ফ্রান্সও লড়াই ছাড়েনি। চারটি গোল করেও ম্যাচ জিততে পারেনি। আক্রমণে এমবাপ্পেদের ঝলক দেখা গেলেও রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়েছে। আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মুখে হাসি ছিল, কিন্তু সেটি ছিল অসম্পূর্ণ। কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল, ব্রোঞ্জ পদক নয়। একই অবস্থা ফ্রান্সেরও। তারা জানে, কয়েক দিন আগেও তাদের সামনে ছিল সোনালি ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন। আজ সেই স্বপ্নের বদলে হাতে রইল শুধু আফসোস।বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু যে দলগুলো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসে, তাদের কাছে এই ম্যাচ অনেক সময় কেবল একটি সান্ত্বনা।
আরো পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিটের দাম কত
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষ করল ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে। আর ফ্রান্স বিদায় নিল চতুর্থ হয়ে।কিন্তু এই ম্যাচটি মনে থাকবে শুধু ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য নয়, বরং ১০ গোলের দুর্দান্ত লড়াই আর দুই ভাঙা হৃদয়ের গল্পের জন্য। কারণ বিশ্বকাপে কখনও কখনও জয়ও সব কষ্ট মুছে দিতে পারে না। আর যখন ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায়, তখন ব্রোঞ্জ পদকের হাসিতেও কোথাও না কোথাও লুকিয়ে থাকে একটুকরো অপূর্ণতা।
