বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ তালিকা প্রকাশ!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থকের দাবি, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলবিসেলেস্তেরা একাধিক পক্ষপাত ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।
এ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান তোদো নতিসিয়াস। সম্প্রতি অনুষ্ঠানটি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘প্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ১০ জন পরিচিত ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
আরো পড়ুন: এমএলএস অল-স্টার ম্যাচে খেলছেন না মেসি
শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ‘বেইন স্পোর্টস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসান অভিযোগ করেছিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষ লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে। তার দাবি ছিল, মিশর একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কি শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য? তারা কি চায় মেসি খেলতে থাকুক?’
তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানও। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণের সমালোচনা করে তিনি এক্সে লিখেছিলেন, ‘তাদের আচরণ ছিল জঘন্য, বিশেষ করে পারেদেসের। তারা একটি সহিংস দল এবং ফুটবলের জন্য কলঙ্ক।’ এর জবাবে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জোনাথান ফিয়ালি মরগানের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
আরো পড়ুন: ইতালির কোচ হওয়ার প্রস্তাব যে কারণে ফিরিয়ে দিলেন গার্দিওলা
এ ছাড়া হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের দাবি, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী’ অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকাল। তবে তাদের প্রত্যেকের মন্তব্য বা অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশো স্পিডও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই ইউটিউবার স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইন ও সরাসরি বাকবিতণ্ডায় জড়ান। অনুষ্ঠানটির মতে, এসব আচরণ ছিল আর্জেন্টিনাবিরোধী।
তোদো নতিসিয়াস-এর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে আর্জেন্টিনার পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার সমালোচকদের মতে, সাধারণ সমালোচনাকেই অতিরঞ্জিত করে একটি সংগঠিত ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
