স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন
রোনালদো আর রুনিই ছিল ইউরোপের সেরা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ফাইল ছবি
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের অন্যতম দুই তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ওয়েইন রুনিকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড় মনে করতেন কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তার অধীনে ইংলিশ ক্লাবটিতে খেলার সময় এই দুই ফুটবলার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য হয়ে উঠেছিলেন বড় আতঙ্ক।
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো ও রুনির প্রশংসা করেছেন ফার্গুসন। তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে আমার মনে হয়, ওরা দুজনই ছিল ইউরোপের সেরা। সত্যিই তাই মনে করি। আমাদের জন্য সময়টা ছিল অসাধারণ। এরপর আমরা ২০০৮ সালে মস্কোয় ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিলাম।’
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এর আগে টানা তিন মৌসুম লিগ শিরোপা জিততে পারেনি দলটি। রোনালদো ও রুনির দুর্দান্ত জুটি ইউনাইটেডের সেই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তিন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুজন মিলে করেছিলেন ১০৪ গোল।
শুরুর দিকে, বিশেষ করে রোনালদোর ক্ষেত্রে, মানিয়ে নেওয়ার কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে ২০০৬-০৭ মৌসুমে এসে তাদের বোঝাপড়া হয়ে ওঠে দুর্দান্ত। মাঠে দুজনের পারস্পরিক সমন্বয়ের অন্যতম সেরা উদাহরণ ২০০৭ সালের মার্চে বোল্টনের বিপক্ষে ম্যাচটি।
সেই ম্যাচে নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছিলেন রোনালদো ও রুনি। পুরো আক্রমণে দুজনের পাস দেওয়া-নেওয়ার নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। গোলরক্ষক জুসি ইয়াসকেলাইনেনকে চিপ করে রোনালদোর গোলটি আজও স্মরণীয়।
সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ফার্গুসন বলেন, ‘লিভারপুলের ছোটখাটো গড়নের এক ছেলে আর পর্তুগালের ছয় ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার তরুণ এক ফুটবলার যেভাবে একসঙ্গে খেলেছিল, তা ছিল অসাধারণ।’
গোলটির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলটা কোনোমতে ক্লিয়ার করেছিলাম, সেটি রোনালদোর কাছে যায়। সে বল দেয় ওয়েইনকে, ওয়েইন আবার ফিরিয়ে দেয়। এরপর রোনালদো আবার পাস দেয়। এভাবেই তারা পাস দিতে দিতে মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এগিয়ে যাচ্ছিল।’
ফার্গুসনের ভাষায়, ‘তারা অসাধারণ একটি গোল করেছিল। গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে রোনালদোর বল তুলে দেওয়ার দৃশ্য ছিল অবিশ্বাস্য!’ ইউনাইটেডে একসঙ্গে থাকার সময়ে রোনালদো ও রুনি জিতেছেন তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি লিগ কাপ ও একটি ক্লাব বিশ্বকাপ।
২০০৮ সালে রোনালদো ব্যক্তিগত সাফল্যের শিখরেও পৌঁছান। সে বছর ব্যালন ডি’অর, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় এবং উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
২০০৯ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন রোনালদো। তবে ইউনাইটেডে রুনি-রোনালদোর সেই জুটি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
