×

স্বাস্থ্য

আইসিডিডিআর,বি

হামের ধরন বদলায়নি, বেশি আক্রান্ত ৯ মাসের কম বয়সিরা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

হামের ধরন বদলায়নি, বেশি আক্রান্ত ৯ মাসের কম বয়সিরা

ফাইল ছবি

বর্তমানে ব্যবহৃত হামের টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো জিনগত পরিবর্তন ভাইরাসে ঘটেনি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি। একই সঙ্গে তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুরাই হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআর,বি জানায়, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় পরিচালিত একটি হাসপাতালভিত্তিক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের ভাষ্য, দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাবের পর অনেকের মধ্যে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তবে তাদের অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, ভাইরাসটি টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তিত হয়েছে।

আরো পড়ুন: দুই হাসপাতালকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, ওটি সিলগালা

অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে, সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। জিনগত বিশ্লেষণেও নিশ্চিত হয়েছে, দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বি-৩ (B3) জিনোটাইপের, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামজনিত বলে সন্দেহ করা ৭২১ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণাটি গত ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ভর্তি ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ জন সন্দেহভাজন শিশুকে নিয়ে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৩২৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়।

আরো পড়ুন: ই-টিকিটিং সেবা চালু হলো বার্ন ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছিল তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশু। এ বয়সী ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকরা বয়স ও টিকা গ্রহণের ভিত্তিতে শিশুদের চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের (৯৭.৩ শতাংশ) হাম নিশ্চিত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের (৯৭ শতাংশ), এক ডোজ পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের (৯২ শতাংশ) এবং দুই ডোজ পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের (৭৬ শতাংশ) হাম শনাক্ত হয়।

তবে আইসিডিডিআর,বি স্পষ্ট করেছে, এই ৭৬ শতাংশ হারকে সাধারণ জনগোষ্ঠীর টিকার কার্যকারিতার সূচক হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, গবেষণাটি শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি সন্দেহভাজন রোগীদের ওপর পরিচালিত হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়নি—এমন শিশু এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে জাতীয় পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতা নির্ধারণে আরও বড় পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।

আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. নূরজাহান মালিহা বলেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষের মধ্যে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে অনুসন্ধানে ভাইরাসটি টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভাইরাসের কিছু জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন) শনাক্ত হলেও সেগুলো আগেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের ভাইরাসে পাওয়া গেছে। এসব পরিবর্তনের কারণে প্রচলিত টিকা অকার্যকর হয়ে গেছে—এমন প্রমাণ নেই।

আরো পড়ুন: জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে ৩৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯ হাজার ২০৬

আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। কিন্তু তাদের আগের একটি গবেষণার প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জন্মের পর কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া হামের অ্যান্টিবডি দ্রুত কমে যায়। ফলে তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে সুরক্ষার ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে জাতীয়ভাবে টিকাদানের হার তুলনামূলক বেশি থাকা সত্ত্বেও এত বড় প্রাদুর্ভাব কেন ঘটল, সেটিও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ জানান, টিকা নেওয়া কিছু শিশু কেন আক্রান্ত হচ্ছে, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর পেছনে কী কী কারণ কাজ করছে, অপুষ্টির প্রভাব কতটা এবং শিশুরা কখন মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি হারায়—এসব বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির গবেষকেরা চারটি প্রধান বিভাগীয় হাসপাতালে একটি গবেষণা শুরু করেছেন বলে আইসিডিডিআর,বি বলেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যে ভুল থাকলে বেতন-ভাতা পাবেন না মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা

যে ভুল থাকলে বেতন-ভাতা পাবেন না মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল কর্মী

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল কর্মী

এলপিজির দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে

জামায়াত এলপিজির দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে

ঘুমন্ত নারীর মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার টেনে নিল বাঘ

ঘুমন্ত নারীর মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার টেনে নিল বাঘ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App