বিজেপির পতন না দেখে মরব না: মমতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বয়স নয়, মানুষের মনোবল, মানসিক শক্তি ও লড়াইয়ের ক্ষমতাই আসল। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই তিনি জানিয়েছেন, এখনও তার ভেতরে নতুন করে দল গড়ে তোলার শক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বিজেপির পতন নিজের চোখে না দেখে তিনি বিদায় নেবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ যখন তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন মমতা দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় এবং দলত্যাগের ধাক্কা সামলেও আবার দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে সক্ষম হবেন তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী ফেসবুকে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘আমার বয়স নিয়ে আপনাদের ভাবার প্রয়োজন নেই। মানুষের বয়স নির্ধারণ করে তার মন, শরীর ও মানসিক শক্তি। আমি কি কখনও প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বিজেপি চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যতদিন না তোমাদের পতন নিজের চোখে দেখি।’
বয়সকে নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথে বাধা মনে করেন না বলেও জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘যাদের যেতে ইচ্ছা, তারা চলে যেতে পারে। যা থাকবে, সেটাই হবে আমার সোনার খনি। ১৯৯৭ সালে যেমন শুরু করেছিলাম, ২০০৪ সালে যেমন নতুন করে লড়েছি, ঠিক তেমনি ২০২৬ সালেও আবার নতুনভাবে শুরু করার শক্তি আমার আছে। আমি এক নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি। এখন যারা আমার সঙ্গে রয়েছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব।’
রাজনীতি থেকে অবসরের কোনো পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করব, লড়ব, বাঁচব।’
আরো পড়ুন : ভারতসহ ৫ দেশের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন শুল্ক
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ বিদ্রোহ করেছেন। বেশির ভাগ বিধায়ক বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ একটি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার মমতার এই আবেগঘন বার্তা আসে তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের সমাবেশের কয়েক দিন আগে। দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলোর একটি। এবার একই দিনে দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করবে।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে ২১ জুলাইয়ের বার্ষিক শহীদ দিবসের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে বিক্ষোভ চলাকালে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে শহীদ দিবস পালন শুরু হয়। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন। পরে এই কর্মসূচিই তৃণমূল কংগ্রেসের বার্ষিক রাজনৈতিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
