ট্রাম্পের নতুন শুল্কে চাপে ভারতীয় ওষুধশিল্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রেই জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ ভারত এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হবে। তবে প্রথম দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব জেনেরিক ওষুধের ওপর শুল্কহার শূন্য শতাংশই থাকবে। এরপর তৃতীয় বছরে জেনেরিক ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর তার পরের সময় থেকে এ হার বেড়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত হবে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব জেনেরিক ওষুধের ওপর দুই বছর শূন্য শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য শুল্ক ১০০ শতাংশ করা হবে এবং তারপর তা ২০০ শতাংশে উন্নীত হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে না, তাদের জন্য এটি এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।’
আরো পড়ুন : দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ: কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দাবি রাহুলের
ট্রাম্পের ভাষ্য, এই নীতির মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে পেটেন্ট, ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতি অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে
বিশ্বজুড়ে জেনেরিক ওষুধ সরবরাহের কারণে ভারতকে প্রায়ই ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই সরবরাহ করে ভারতীয় কোম্পানিগুলো।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করেছে। যা ওই সময়ে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ওষুধ রপ্তানির ৩৮ শতাংশ। তবে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তি করে। সেখানে জেনেরিক ওষুধ ও এর কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারত আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক ফল পাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
এর আগেও ওষুধ আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময়ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমূল্যের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, সংক্রামক রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ফিন্যান্সিয়াল পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির মোট প্রেসক্রিপশনের প্রায় ৬৫ শতাংশই ভারতভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠান—গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং লুপিন লিমিটেড উৎপাদন করেছে।
