চুরির অপবাদ, যুবকের হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীতে চুরির অপবাদ দিয়ে মো. হানিফ আলী (২২) নামে এক যুবককে একটি ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হানিফ আলী সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ২০২৫ সালে মাদক কারবারিদের মাদক পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে হানিফকে মারধর করে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চলমান।
পরিবারের দাবি, ওই মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নিতে সাদেক আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ৯ শিক্ষকের পদত্যাগ
এরই জের ধরে শুক্রবার সকালে সন্ধ্যাকুড়া বাজার থেকে হানিফকে চুরির অপবাদ দিয়ে জোরপূর্বক একটি ঘরে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর ও অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে হানিফের চিৎকার ও কান্নার শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় হানিফের বাবা সাদেক আলী বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার পর অভিযুক্তদের কোনো সন্ধানও পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
সাদেক আলীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। পাশাপাশি তাঁদের অব্যাহত হুমকিতে পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিরোধ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। হানিফের ওপর হামলার ঘটনায়ও দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, “এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
