১৫ বছর পর একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর একই দিনে তিন দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওকলাহোমা, টেনেসি ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে পৃথকভাবে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিন অঙ্গরাজ্যেই বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্র ‘ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার’ (ডিপিআইসি) জানিয়েছে, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এটাই প্রথম।
টেনেসিতে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্থনি হাইন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ন্যাশভিলের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে তার সাজা কার্যকর করা হয়। ১৯৮৫ সালের মার্চে মোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও চার সন্তানের মা ক্যাথরিন জেনকিন্সকে হত্যার দায়ে হাইন্স দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
এর আগে গত মে মাসে টেনেসিতে এক দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছিল। চিকিৎসাকর্মীরা তার শিরা শনাক্ত করতে না পারায় সে সময় প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়। এরপর অঙ্গরাজ্যটিতে বৃহস্পতিবারই প্রথম কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
অন্যদিকে, ওকলাহোমার ম্যাকঅ্যালেস্টার কারাগারে ৭০ বছর বয়সী কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৩ সালে তার লিভ-ইন সঙ্গী ওলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সাপ মারতে বাংলাদেশি বেজি নিয়ে বিপদে জাপান, শেষমেশ যা ঘটল
আলাবামায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হোল্যান্ডকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এই তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় ১২ জন, টেক্সাসে চারজন, ওকলাহোমায় তিনজন এবং অ্যারিজোনা, টেনেসি ও আলাবামায় একজন করে আসামির সাজা কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা গত কয়েক বছরে আবারও বেড়েছে। গত বছর দেশটিতে ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালে ৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।
গত বছর কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৩৯টি ক্ষেত্রে বিষাক্ত ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া তিনজনের ক্ষেত্রে ফায়ারিং স্কোয়াড এবং পাঁচজনের ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পুলিশের ৮ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে নিষিদ্ধ সংগঠন!
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ইতোমধ্যে বিলুপ্ত করা হয়েছে। আরও তিনটি অঙ্গরাজ্য—ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও পেনসিলভানিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি রয়েছে। জাতিসংঘও এ পদ্ধতিকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক হিসেবে সমালোচনা করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ, এর বৈধতা এবং মানবিকতা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
