হাইকোর্টের রায়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা হিজাব পড়তে পারবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ড্রেসকোড বা ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে হিজাব বা মাথায় স্কার্ফ পরার অনুমতি চেয়ে করা এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ আগস্ট বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন।
মামলার আবেদনকারী একটি বেসরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা ওই শিক্ষার্থী তার মায়ের মাধ্যমে আদালতে রিট আবেদন করেন। স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ পরার অনুমতি দেওয়ার জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
আবেদনে বলা হয়, মাথায় স্কার্ফ পরা ইসলাম ধর্মের একটি প্রয়োজনীয় ও অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয় অনুশীলন। শিক্ষার্থী দাবি করে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সে ওই স্কুলে স্কার্ফ পরে আসছে।
তবে আদালত এ যুক্তি গ্রহণ করেননি। বেঞ্চ বিভিন্ন শ্রেণির ছবি পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখ করেন, আবেদনকারী ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রী, এমনকি একই সম্প্রদায়ের অন্য কোনো শিক্ষার্থীও মাথায় স্কার্ফ পরছে না।
‘স্কার্ফ পরা অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়’
মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ পরাকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে উপস্থাপন করা যুক্তিও আদালত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রায়ে বেঞ্চ উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে মাথায় স্কার্ফ পরা ইসলামের এমন কোনো অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, যা পালন না করলে ধর্মীয় বিশ্বাস সংকটে পড়বে। আদালত আবেদনকারীর পক্ষ থেকে এটিকে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করার বিষয়টিকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
ইউনিফর্ম নির্ধারণে স্কুলের অধিকার
আদালত বলেন, একটি বেসরকারি ও অনুদানবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাসে অভিন্ন ড্রেসকোড কার্যকর করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই পোশাকের নিয়ম সবার জন্য সমান, বৈষম্যহীন এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত হতে হবে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে ওই পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো পোশাক যুক্ত করার আলাদা আইনি অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।
আরও পড়ুন: বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ফের রাজপথে ককরোচরা
আদালত আরও বলেন, অভিন্ন ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্যই হলো সব শিক্ষার্থীর মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ব্যক্তিবিশেষকে আলাদা ছাড় দেওয়া হলে ইউনিফর্মের সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এবং সেখানে সব শিক্ষার্থীর জন্য একই ড্রেসকোড কার্যকর রয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পোশাকের অনুমতি দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও অভিন্ন ইউনিফর্মের নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই)ও ওই ছাত্রীর করা রিটের বিরোধিতা করে।
