‘ঘুষ.সাইট’-এ তিন দিনেই ১৩২৯ অভিযোগ, ২৫ কোটি টাকা ঘুষ দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ফাইল ছবি
বিদেশি কয়েকটি ওয়েবসাইটের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে সরকারি সেবা নিতে কোথায়, কী পরিমাণ ঘুষ চাওয়া হচ্ছে—সেই তথ্য এক জায়গায় তুলে ধরতে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) চালু করেছেন দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ওয়েবসাইটটি চালুর পর মাত্র তিন দিনেই এতে সরকারি সেবা পেতে ঘুষ চাওয়ার ১ হাজার ৩২৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে চাওয়া ঘুষের মোট পরিমাণ ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
ওয়েবসাইটটিতে ভুক্তভোগীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন। অভিযোগ জমা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে—এই পাঁচ ধরনের তথ্য দিতে হয়। পাশাপাশি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা যায়। তবে কারও নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়নি।
নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ‘ঘুষ.সাইট’-এর সঙ্গে কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই। বাইরের কোনো অর্থায়নও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবে চাইলে ওয়েবসাইটটিতে স্বেচ্ছায় অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে চার খুন: পুলিশ ও ময়নাতদন্তের তথ্যে গরমিল
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং কোন সরকারি দপ্তর বা সেবা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আসছে, তা তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বিচ্ছিন্নভাবে থাকা নাগরিকদের অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে সরকারি সেবা ও দপ্তরভিত্তিক ঘুষের অভিযোগের একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করতে চান তারা।
তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যকে যাচাই করা অভিযোগ বা প্রমাণ হিসেবে দাবি করছে না ‘ঘুষ.সাইট’।
অভিযোগ প্রকাশের আগে মডারেশন
কোনো অভিযোগ জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। প্রথমে মডারেশনের মাধ্যমে অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট কিংবা ওয়েবসাইটের নীতিমালা লঙ্ঘন করে—এমন অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনুমোদিত অভিযোগগুলো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত অভিযোগগুলো বিভাগ, দপ্তর, সেবার ধরন, ঘুষের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার ফলাফল অনুযায়ী দেখা যায়।
তিন দিনেই ১,৩২৯ অভিযোগ
সোমবার দুপুরে ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখা যায়, চালুর প্রথম তিন দিনেই সেখানে ১ হাজার ৩২৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে—৮৬৯টি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এসেছে ৪৩৮টি অভিযোগ। এছাড়া রাজশাহী বিভাগ থেকে ২২টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
সব মিলিয়ে এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
অভিযোগ মানেই প্রমাণ নয়
‘ঘুষ.সাইট’-এ জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা হয় না। এটিই ওয়েবসাইটটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা। তাই প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা ‘যাচাই করা হয়নি’ উল্লেখ থাকে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো অভিযোগকে তারা সত্য ঘটনা কিংবা কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন না। এটি কোনো তদন্ত সংস্থাও নয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হওয়ার দাবিও করছে না। বরং নাগরিকদের অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে ঘুষের অভিযোগের একটি উন্মুক্ত রেকর্ড তৈরি করাই উদ্যোগটির উদ্দেশ্য।
উদ্যোক্তাদের একজন সাইফ কবির বলেন, শুধু কত মানুষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন, সেটিকে তারা সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন না। বরং কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নিতে যাওয়ার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে যদি বুঝতে পারেন কোথায় কত টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটিকেই এই উদ্যোগের সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা।
