বাংলাদেশি ‘হিন্দু শরণার্থীদের’ নাগরিকত্বের সনদ দেবে ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ)-এর আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত সিএএর অধীনে ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারীকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যারা এখনো সিএএর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি, তারাও আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া ‘হিন্দু শরণার্থীদের’ দ্রুত নাগরিকত্বের সনদ দেওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সিএএর অধীনে নাগরিকত্বসংক্রান্ত শুনানি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে দ্রুত শেষ করা হবে এবং এরপর সনদ দেওয়া হবে। বর্তমানে জমা পড়া ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদনের মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারী নাগরিকত্বের সনদ পেয়েছেন। বাকি ২ লাখ ৭ হাজার আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদেরও দ্রুত নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বিএসএফের অস্ত্র-ওয়াকিটকি ফেলে পালানোর নেপথ্যে যা ঘটেছিল
দীর্ঘদিন ধরে সিএএর সনদের অপেক্ষায় থাকা মতুয়া সম্প্রদায়সহ অন্যান্য হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বস্ত করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারা তাঁর কাছ থেকেই নাগরিকত্বের সনদ পাবেন। এ বিষয়ে ভারত সরকার তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের পার্লামেন্টে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) পাস হয়। পরে কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে আইনটি দেশজুড়ে কার্যকর করে।
সিএএর আওতায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নির্দিষ্ট শর্তে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে।
২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সিএএর আওতায় শরণার্থীদের আবেদন শুনানি এবং নাগরিকত্বের সনদ দেওয়ার প্রশাসনিক ক্ষমতা দেয়।
এর আগে গত ১ আগস্ট শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে সিএএর আওতায় থাকা সব মুলতবি আবেদন আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
