বিএসএফের অস্ত্র-ওয়াকিটকি ফেলে পালানোর নেপথ্যে যা ঘটেছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে কৃষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আমঝোল সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন কৃষক নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং কৃষকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি হয়। পরে গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত সীমান্তের দিকে চলে যাওয়ার সময় দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে যান।
খবর পেয়ে বনচৌকি ক্যাম্পের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বিএসএফের ফেলে যাওয়া দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় বিজিবি।
আরও পড়ুন: পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে আগুন
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কৃষক লিটন মিয়া বলেন, তাঁর বাবা ও ভাই মাঠে কাজ করছিলেন। তাঁর মা তাঁদের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় ছাগল নিয়ে ফিরছিলেন এক কৃষককে বিএসএফের চার সদস্য ধাওয়া করেন বলে তিনি জানান।
লিটন মিয়ার ভাষ্য, বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি তাদের ধাওয়া না দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে তিনি একজন বিএসএফ সদস্যের হাত ধরে ফেলেন। এরপর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে বিএসএফ সদস্যরা পালিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
