ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যেই মতবিরোধ ভারতের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ভারতের অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। বাণিজ্যনীতি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে নয়াদিল্লির আপত্তি স্পষ্ট হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বিভিন্ন বক্তব্যে এসব মতপার্থক্যের বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে নয়াদিল্লি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ভারত এরই মধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে।
বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েন
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখন বাণিজ্য। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালালেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ১ অক্টোবর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও বলেছেন, আলোচনা চললেও চুক্তি এখনই চূড়ান্ত হওয়ার মতো পর্যায়ে নেই।
কৃষি খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। ভারত নিজেদের কৃষক ও অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের নীতি অনুসরণ করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চায়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বলেছেন, কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্য দেশের অর্থনীতি ও মানুষের ওপর তার প্রভাব পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারে না।
রাশিয়ার তেল নিয়ে বিরোধ
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করায় ভারত এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও কমেছে। আগস্টে দেশটির রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি জুলাইয়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দৈনিক প্রায় ২১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। তবু রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে।
পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কাশ্মীরসহ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। জয়শঙ্করও ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে দিতে চায় না কেউ
মতপার্থক্য বাড়লেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন। দুই নেতা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।
এদিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
ফলে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
