সমুদ্রে ডুবে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার দিভেগার সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে আট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের বয়স ১৬ বছর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুনের আলান্দির বেসরকারি কোচিং সেন্টার ‘উইনার্স একাডেমি’র ৪৮ সদস্যের একটি দল শিক্ষাসফরে দিভেগার সৈকতে যায়। দলটিতে ২৫ জন ছেলে, ১৭ জন মেয়ে ও ছয়জন শিক্ষক ছিলেন।
প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দলটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৈকতে পৌঁছায়। পরে আট শিক্ষার্থী সমুদ্রে নামলে তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যান। পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা বিপদে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ‘ভাউ মারুতি সালুনখে মহাকালী ওয়াটার স্পোর্টস’-এর মালিক ভাউ সালুনখে ও তাঁর সহযোগীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঝুঁকি নিয়ে অভিযান চালিয়ে আট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে দিঘি সাগরি বোরলি পঞ্চায়তন থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ আওয়াতির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে বোরলি পঞ্চায়তন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন তানময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বনসোদে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসানকার, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়ানখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ডওয়ালকার ও কৌশ্তুভ সন্দীপ দাউন্ড।
এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। মরদেহ আলান্দিতে নিতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী গিরিশ মহাজন। শিক্ষাসফরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রণয়নের কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মহাজন।
