ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি; বরং এ বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাহুল। খবর এনডিটিভির।
রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনে কীভাবে কারচুপি হয়েছে, তার প্রমাণ বিরোধীদের হাতে রয়েছে এবং গোটা দেশ তা দেখেছে।
তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। সূত্রটির ভাষ্য, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। এ সময় তারা প্রধান বিচারপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবেন।
এর আগে রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন। পরে একটি ছোট প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়।
রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছে বিরোধী জোট।
১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
২. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল করা।
৩. সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা।
৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেসব নির্বাচন বাতিল করা।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে শেষ পর্যন্ত ১০ জন বিরোধী নেতা অংশ নেন। অন্য নেতারা রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় তাদের হাতে ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের যোগসাজশ রয়েছে এবং নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বিরোধীদের কর্মসূচির সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছে।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়াই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে বিরোধীদের কর্মসূচি সেই সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিরোধীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও বিজেপি তাদের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বৈঠকে ঠিক কী বলেছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় এ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
