কেন অভিজিৎকে আটক করতে নারী পুলিশ পাঠাল সরকার?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। যন্তর মন্তরে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে এসেছিলেন তারা।
তবে এ ঘটনায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে আটক অভিযানে নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন। পুরুষ পুলিশ সদস্যদের পরিবর্তে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিমানটির ভেতরে উত্তেজনা বা ধস্তাধস্তির আশঙ্কা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে।
বিমানের আসনগুলোর মাঝখানের পথ সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে সামান্য ধাক্কাধাক্কি থেকেও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারত। এমন পরিস্থিতি এড়াতেই নারী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে অভিযান চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত ছাড়াই তিন নেতাকে আটক করা হয়।
২০ জুলাইয়ের ঘটনার প্রভাব কি পুলিশের কৌশলে?
গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে সংসদ অভিমুখে মিছিল করার সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তরুণী বিক্ষোভকারীদের মারধরের অভিযোগ তোলে সিজেপি।
দলটির দাবি, ১২ বছর বয়সি মেয়েরাও ওই ঘটনায় আহত হয়েছিল এবং কয়েকজনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে উল্লেখ নেই।
সিজেপির সমর্থকদের বড় অংশ তরুণ ও জেন-জি প্রজন্মের হওয়ায় নেতাদের আটকের সময় নতুন করে সংঘাত বা বিতর্ক তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি পুলিশের নিশ্চিতভাবে জানানো কারণ নয়।
যেভাবে বিমানের ভেতর থেকে আটক করা হয় তিন নেতাকে
বিমান অবতরণের পর পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে তিন নেতাকে ঘিরে ফেলেন। জানালার পাশে বসে থাকা অভিজিৎ দীপকে এ সময় ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। তার পাশের আসনে ছিলেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বিমানের ভেতর থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারী পুলিশ সদস্যরা তিন নেতাকে ঘিরে রেখেছেন। আটকের পদ্ধতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন দীপকে। তার বক্তব্য ছিল, বিমান থেকে নামার পরও তাদের আটক করা যেত।
ভিডিওতে দীপকেকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। আমাদের সরাসরি বিমান থেকেই গ্রেফতার করতে এসেছে পুলিশ। এমন কাজ ইন্দিরা গান্ধীও করেননি। এটা একনায়কতন্ত্র।’
এরপর তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি গ্রেফতার হতেই এসেছি, আমাকে গ্রেফতার করুন।’
অন্যদিকে, নারী পুলিশ সদস্যদের বারবার দীপকে ও তার সঙ্গীদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাতে দেখা যায়। পরে তিন নেতাকেই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
‘কর্তৃত্ববাদী আটক’ বলছে সিজেপি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি।
কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাদের বিমান থেকে আটক করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দলটি। সিজেপি এ পদক্ষেপকে ‘কর্তৃত্ববাদী আটক’ বলে নিন্দা করেছে।
তবে নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েনের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, তা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
