আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে কী হতে চলেছে দিল্লিতে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে রবিবার (১১ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তরুণ আন্দোলনকারীরা। এর আগে আদালতের নির্দেশে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও সংগঠনটির আরও দুই শীর্ষ নেতা মুক্তি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি ধ্রুব রাঠিও আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন।
শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পরই অভিজিৎ দীপকে ও অন্য দুই নেতাকে আটক করা হয়। ওই দিন মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করার পরিকল্পনা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। রবিবার ভোরে তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।
সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে নেতাদের মুক্তির খবর জানান। তিনি বলেন, মুক্তির শর্ত হিসেবে এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আর কোনো বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার শর্তে মধ্যরাতের পর ধ্রুব রাঠিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার
শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার বিভিন্ন সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। এ সময় দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগকেই শনিবার গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবারও দিল্লিজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তবে বন্ধ থাকা মেট্রো স্টেশনগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও চালু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচকেরা। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি সংস্থা। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অবস্থানকে ‘বেছে বেছে নেওয়া’ বলে মন্তব্য করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, জাতিসংঘের এই বিবৃতি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।
কেন পদত্যাগের দাবি?
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। সমালোচকদের অভিযোগ, এই সংশোধনপ্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ চলছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
‘সিজন ২’ আন্দোলনে সিজেপি
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শুরুতে অনলাইনে ব্যঙ্গ-রসিকতার একটি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সংগঠনটির আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সিজন ২’ হিসেবে অভিহিত করছে সংগঠনটি। সিজেপির ঘোষণা, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে কত মানুষ অংশ নেবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে দিল্লিতে নজর রয়েছে।
