ভারতে লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গত বেশ কয়েকদিন ধরেই ভারতের লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে সভায় কথা বলতে না দেয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে।
এজন্য মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে এ ব্যাপারে নোটিশ জমা দিয়েছেন কংগ্রেস মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। সংবাদ মাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে, এই নোটিশ লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার।
অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য বিরোধী শিবিরের ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। তাতে কংগ্রেসের পাশাপাশি ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদেরাও স্বাক্ষর করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদেরা এই অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি।
তৃণমূল কংগ্রেস স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অপেক্ষা করার অজুহাতেই এই অনাস্থা নোটিশে সই করেনি। তবে বলা হয়েছে, নীতিগতভাবে এতে সমর্থন রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আট জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়ও বিরোধী দলের নারী সাংসদদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর আক্রমণ করতে পারেন। এই সব ঘটনার প্রতিবাদেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চাইছে বিরোধী জোট।
বিরোধী শিবিরের এই নোটিশ প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, যাদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তারাই দেশের সাংবিধানিক পদকে অপসারিত করতে চাইছে। এটি কেমন ধরনের চিন্তাভাবনা? আমার মনে হয়, গোটা দেশের এ বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকেই অপসারিত করে দেয়া উচিত।
সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের আওতায় লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। তবে এর জন্য লোকসভার সাংসদদের ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিতে স্পিকারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হওয়া প্রয়োজন।
অতীতেও লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো বারই তা সফল হয়নি।
