পাকিস্তানকে এলএনজি সরবরাহ করবে আজারবাইজান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
পাকিস্তানকে এলএনজি সরবরাহ করবে আজারবাইজান। ছবি- সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি (এসওসিএআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ পেলেই তারা দেশটিতে দ্রুত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
এক বিবৃতিতে এসওসিএআর জানায়, ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তির আওতায় পাকিস্তান এলএনজি লিমিটেড সরাসরি তাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া গেছে কি না বা প্রথম দফার সরবরাহ কবে হতে পারে, সে বিষয়ে কোম্পানিটি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি। মূলত কাতার থেকে এলএনজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরই আজারবাইজানের এই প্রস্তাব পাকিস্তানের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তান নজিরবিহীন গ্যাস ঘাটতি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানা মূলত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকারি সূত্রমতে, কাতার থেকে চারটি এলএনজি কার্গো আমদানি স্থগিত করতে হয়েছে। মূলত ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর আগে কাতার এনার্জি নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল।
বর্তমানে পাকিস্তানে দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অবস্থায় আজারবাইজানের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সংগ্রহ করতে না পারলে পাকিস্তানের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
