ইরানের বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের গুঞ্জন, নাকচ করল আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি- সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য পরমাণু ও শান্তি চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান গুঞ্জনের মধ্যেই ইরানের জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় দিতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ার পর, আবুধাবি এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (১৩ জুন) সংশ্লিষ্ট চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পরপরই আমিরাতের এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সামনে এলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ছাড়ের বিষয়ে সম্মতি তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক দুটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের মোট ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ইতিমধ্যে তেহরানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভিন্ন দুটি সূত্রের দাবি, আমিরাতে জব্দ থাকা এই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
মূলত আমিরাতের ভূখণ্ড ও অর্থনৈতিক স্থাপনার ওপর ইরানের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের বিনিময়ে এই গোপন সমঝোতা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ইতিমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে। তবে রয়টার্সের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতি দিয়ে পুরো বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
আবুধাবির পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আমিরাত থেকে ইরানে অর্থ স্থানান্তরের যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আমিরাত এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে। ইরানের জব্দ করা কোনো অর্থ আমিরাতের মাধ্যমে কোনো ব্যাংকিং চ্যানেলে স্থানান্তর বা ছাড় দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অর্থ ছাড়ের খবর অস্বীকার করলেও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমিরাতের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি জানান, আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্যই হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস, সামরিক সংঘাত কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগসহ যেসব প্রচেষ্টা এই অঞ্চলের সাধারণ জনগণকে যুদ্ধ ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, ইউএই সব সময়ই সেসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নীতিগত সমর্থন দিয়ে আসছে। এদিকে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের জব্দ করা সব অর্থ একবারে ছাড় দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য চুক্তিটি এমন এক নিখুঁত প্রক্রিয়ায় সাজানো হচ্ছে, যাতে ইরান চুক্তির প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করলে তবেই সমপরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। এই সামগ্রিক অর্থ ছাড়ের গুঞ্জন ও আমিরাতের অস্বীকারের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
