মোবাইল চুরির অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল ঘটনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ফল কিনতে গিয়ে এক দোকানির মুঠোফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাটি ধরা পড়ার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) অভিযুক্ত এসআই রাসেল মিয়াকে আজমিরীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে আজমিরীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রাজীব আহমেদের দোকানে ফল কিনতে যান এসআই রাসেল মিয়া। তিনি পেয়ারা ও লটকন কেনার পর আরও কয়েক মিনিট দোকানে অবস্থান করেন। তিনি চলে যাওয়ার পর রাজীব তার মুঠোফোনটি খুঁজে পাননি।
পরে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে রাজীব দেখতে পান, এসআই রাসেল তার মুঠোফোনটি নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফুটেজে দেখা যায়, দোকানের টেবিলের ওপর রাজীবের মুঠোফোন রাখা ছিল। একপর্যায়ে রাসেল তার হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মুঠোফোনটি দোকানির ফোনের ওপর রাখেন। পরে কথা বলার সময় দুটি ফোনই পকেটে ঢুকিয়ে নেন। এরপর হাতে ফলের ব্যাগ নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলে তিনি চলে যান।
রাজীব আহমেদ বলেন, মুঠোফোনের বিষয়ে রাসেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে তার সঙ্গে দেখা করেন রাসেল। তখন তিনি জানান, মুঠোফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন। পরে ফোনটির মূল্য বাবদ রাজীবকে ১৫ হাজার টাকা দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই রাসেল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন ঘটনাটি তদন্ত করেন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসআই রাসেল মিয়াকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
ওসি আকবর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এসআই রাসেল মিয়াকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে।
