মোজতবা খামেনি
ট্রাম্প ‘চাপ ও হতাশা থেকেই’ চুক্তিতে গিয়েছেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতার পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অঞ্চলটিতে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনও মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার কিছু আপত্তি থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, এতে ইরানি জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির দাবি- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এবং হতাশা থেকে এই সমঝোতা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বা নীতিকে মেনে নেওয়ার সমতুল্য হবে না।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পক্ষ থেকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন। এছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে আরো বাড়ানো যেতে পারে।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, সমঝোতাটি ইতোমধ্যে দূরবর্তী পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হওয়ায় নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। যদিও এরপরও সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অতিরিক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে শিগগিরই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতা সমালোচনা করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এ চুক্তিকে “দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা” বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আর্থিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে ইরান কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুযোগ পাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইসরাইলের কয়েকজন মন্ত্রী চুক্তির সমালোচনা করলেও তাদের বক্তব্যের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এখন বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটায় এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরাইল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এবং চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
