লেবাননে বিমান হামলায় নিহত ৩২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে এক লেবানিজ সেনাসহ ৩২ জন নিহত হয়েছে।
হিজবুল্লাহর সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরিকল্পিত কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবার (২০ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা।
লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ‘শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।’
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, ‘কাফার রেমান গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একজন লেবানিজ সৈন্য নিহত হয়েছেন।’
বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর জানিয়েছে, টায়ার জেলার বারিশ গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের বাবা-মা ও দুই সন্তানসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
এনএনএ আরো জানিয়েছে, ‘পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমোরে একটি পৃথক ইসরায়েলি অভিযানে একটি বাড়ি আক্রান্ত হয়, যেখানে একটি পরিবার অবস্থান করছিল। এতে চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।’
লেবাননের স্বাস্থ্য জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘সিডন জেলার কানারিত শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন।’
লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ নতুন করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরই এই হামলাগুলো চালানো হয়।
“এটি এই যুদ্ধবিরতির নড়বড়ে প্রকৃতির দিকেই ইঙ্গিত করে, এবং এও দেখায় যে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি লেবানন এবং আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে সেখানে কী ঘটে তার ওপর নির্ভরশীল বলে মনে হচ্ছে”, বৈরুত থেকে আল জাজিরার রব ম্যাকব্রাইড বলেন।
সমঝোতা স্মারকের ১ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, লেবাননে যুদ্ধের অবসান ঘটানো সকল রণাঙ্গন জুড়ে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শনিবার লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, লেবানন সরকার মার্কিন-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে আসছে। লেবানন সরকার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের জন্যও চাপ দিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির খসড়ায় হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়নি।
হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা গত রাতে নাবাতিয়ার নিকটবর্তী একটি এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, হিজবুল্লাহ গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে কর্মরত তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে ৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং তারাই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে দাবি করে।
