সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিরা। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনিও ইতোমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
এর আগে ভ্যান্সের মুখপাত্র লুক শ্রোডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ২০ জুন ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
এর আগে জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন এবং আলোচনার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার আগে শনিবারই ইরানের আলোচক দল জুরিখে পৌঁছেছে। এছাড়া আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারও অংশ নেবে এই আলোচনায়।
দেশটি আরও জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়নে ইসলামাবাদ তার সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া এক কূটনীতিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনার প্রথম দিনের এজেন্ডায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নিয়ে একটি জরুরি অধিবেশন যুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসার পর এটিই প্রথম আলোচ্য বিষয় হতে পারে। তবে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ এবং লেবানন সরকার।
এদিকে, জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি 'পারমাণবিক ইস্যু' এবং 'লেবানন যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে' অগ্রগতি আশা করছেন। বিমানযাত্রার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "সেখানে পরিস্থিতির আসলে উন্নতি হচ্ছে এবং উত্তেজনা কিছুটা কমছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, "এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে হবে, যাতে ইসরায়েল ও লেবানন- উভয়ই নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে। মূল লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখা।"
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, তার দেশ "অন্য পক্ষের কাছ থেকে তাদের অঙ্গীকার পূরণের দাবি জানাবে।"
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলোচনার উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন বলে তার কার্যালয় থেকে বিবিসিকে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দফা আলোচনারও আয়োজন করেছিল।
এর আগে এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে লেবানন পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়।
ওই চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ। হেজবুল্লাহর ঘাঁটি মূলত বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে অবস্থিত।
শনিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানিয়েছে যে, তারা হেজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং সংগঠনটির 'ডজনখানেক সদস্যকে' হত্যা করেছে।
আইডিএফ আরও বলেছে যে, তাদের চারজন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চুক্তির আগে ইসরায়েল বলেছিল যে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছিল যে, হেজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের সংঘাত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
অন্যদিকে হেজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলাগুলো বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে 'নস্যাৎ করার' কিংবা 'ব্যর্থ করার' চেষ্টা।
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি।
