তেল রপ্তানি শুরু করলো ইরান, সচল খারগ দ্বীপ অবমুক্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর নিজেদের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে আবারো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরান।
জানা গেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহারের পরপরই সেখানে তেল লোডিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খারগ দ্বীপের ‘সি আইল্যান্ড টার্মিনালে’ বর্তমানে তিনটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি) অবস্থান করছে। এই জাহাজগুলোর প্রতিটির প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ‘তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে জেটিতে ভিড়েছে এবং তেল লোডিং কার্যক্রম শুরু করেছে। অপর জাহাজটি টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থান করছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ তথ্য বলছে, ‘গত শুক্রবার পর্যন্ত টার্মিনালের জেটিগুলো খালি ছিল। মে মাসের পর থেকে এ এলাকায় বড় তেলবাহী জাহাজের উপস্থিতিও ছিল খুবই সীমিত।’
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক সমঝোতার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। এর সুযোগে ইরান দ্রুত তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।’
এদিকে, চাবাহার বন্দরের আশপাশে অবস্থান করা কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চললেও ইরান ধীরে ধীরে জাহাজগুলোকে আবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘স্ট্রিম’, ‘ইম্পালা’ এবং ‘লরেন-২’ নামের তিনটি তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
খারগ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে উপসাগরের পূর্বাঞ্চলে আরও অন্তত ২০টি তেলবাহী জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে ইরানের তেল রপ্তানি আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
