গ্যাসসংকট কাটাতে দুই বছর লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের চলমান গ্যাসসংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং এর স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা যায়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট নগরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী
গ্যাসসংকট প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মিল ও শিল্পকারখানা বর্তমানে গ্যাসের সংকটে ভুগছে। এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; দীর্ঘদিনের সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে সময় লাগবে। অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েও কাজ করছে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মালয়েশিয়ার ছোট আকারের এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজগুলো বর্তমানে অন্য কাজে নিয়োজিত থাকায় দ্রুত সেখান থেকে গ্যাস আনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সাময়িকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি করা যায় কি না, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ জাতির দীনতার প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘আপৎকালীন কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নিতে হবে।’
কৃষিতে বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব
এর আগে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট অঞ্চলের পতিত ও এক ফসলি জমিকে কৃষির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে হাওর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে বিপুল পরিমাণ জমি আবাদযোগ্য করা সম্ভব।
সেচের অভাবে যেসব জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনাবাদি থাকে, সেখানে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতে খাল খনন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেটে তরমুজ চাষের সাফল্যকে অপ্রচলিত ও নতুন কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগাম তরমুজ উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
