ভেনিজুয়েলার পাশে থাকার ঘোষণা চিলির রাষ্ট্রপতির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভেনিজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশকারী বিশ্বনেতাদের তালিকায় যোগ দিয়েছেন চিলির রাষ্ট্রপতি হোসে আন্তোনিও কাস্ট।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ সংহতি প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ ভেনিজুয়েলার এই কঠিন সময়ে আমরা ভেনিজুয়েলার জনগণের পাশে আছি এবং মানবিক সহায়তা বিতরণে সমন্বয় সাধন ও ভূমিকম্পজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে সহায়তা করার জন্য তাদের সরকারকে সমর্থন জানাই। এই বিপর্যয় মোকাবেলায় চিলি ও ভেনিজুয়েলা ঐক্যবদ্ধ। ’
প্রসঙ্গত, গতকাল ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে দেশটিতে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ধাক্কাটির রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
সিএনএন-এর যাচাইকৃত একাধিক ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ ভেনিজুয়েলা জুড়ে অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখা গেছে। কাতিয়া লা মার-এর একটি পাহাড়ের ঢালে কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্যও সেখানে ধরা পড়ে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত মানুষজন তাদের পরিবার ও পোষা প্রাণী নিয়ে হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে আসেন।
ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ছিল এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার। ওই অঞ্চলে দেশটির বেশ কয়েকটি তেল শোধানারগার আছে।
বুধবার ছিল ভেনেজুয়েলার সরকারি ছুটির দিন। স্পেনের এক সময়ের উপনিবেশ ভেনেজুয়েলায় প্রতি বছরের এই দিন দেশটির বাসিন্দারা সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস পালন করে।
মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) তার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্যোগ সামনে আরও ব্যাপক আকার নেবে।
ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও বাড়িঘর ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি অনুসরণে তৈরি করা হয়নি। দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস সহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভবন-বাড়িঘর ধসে পড়েছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও বহুসংখ্যক ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকার কারণে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী কারাকাসের বহু এলাকা এবং ভেনেজুয়েলার অনেক গ্রাম-শহর ভূমিকম্পের পর থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
