ট্রাম্প
‘আলোচনায় না এলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র উড়িয়ে দেবো’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর মাঝেই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সব পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন। পাশাপাশি, তিনি ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের পদক্ষেপ আবার শুরু করেন।
ট্রাম্প বলেন, "আগামী সপ্তাহটি তাদের জন্য সত্যিই খুব খারাপ হবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। তারা আলোচনার টেবিলে না এলে তাদের সব সেতুও ধ্বংস করে দেব।”
আরো পড়ুন: মার্কিন হামলায় নিহত ৭ ইরানি সেনা
তার নির্দেশে মার্কিন সেনারা ইরানের সব বন্দরের বিরুদ্ধে আবারও ‘ব্লকেড’ চালু করে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটা ওদের (ইরান) খুব খারাপ যাবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র অকেজো করে দেব। তারা যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে দরকষাকষি না করে, তাহলে আমরা তাদের সব সেতু ধ্বংস করে দেব।’
গত এপ্রিলেও ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রসহ বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল।’

১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংঘাতে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত চারটি আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ‘অত্যাবশ্যক’ স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ।
মঙ্গলবার রাতে প্রচারিত ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেইয়ার’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্প আরও জানান, ‘আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে রেহাই দেব। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ওপরও হামলা হবে।’
মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের প্রতিনিধিদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ‘দ্রুত চুক্তি করা আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আর না হলে আপনাদের কাছে আর কিছুই থাকবে না।’
সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন ট্রাম্প।
এর আগে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ না করে বরং উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশাল’ আকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করতে বাধ্য করবেন তিনি।
আরো পড়ুন: যৌন নিপীড়ন মামলায় ক্ষতিপূরণ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে ব্লকেড চালু করে ওয়াশিংটন।
সোমবার এক নাটকীয় ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’।
তিনি এই নৌপথকে সুরক্ষিত রাখতে সেখান দিয়ে যাতায়াত করা সব নৌযানের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের প্রস্তাব দেন।
পাশাপাশি, ইরানকে চাপে রাখতে আবারও ব্লকেড চালুর ঘোষণাও দেন এই সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী।
তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে ট্রাম্প ওই অবস্থান থেকে সরে আসার কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘২০ শতাংশ ফি আদায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবর্তে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করবে।
‘এই বিনিয়োগগুলোর পরিমাণ অনেক বেশি হবে। তবে একই সঙ্গে এটি ওই দেশগুলোর জন্য খুবই উপকারী হবে। ভবিষ্যতেও এই উপকার অব্যাহত থাকবে’, যোগ করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের এসব ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ট্রাম্পের ব্লকেড আরোপের সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেস্তে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তারা আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর উদ্যোগ নিয়ে, সামরিক অভিযান চালিয়ে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমাদের আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করবে, তাহলে তারা ভুল করছে।’
