নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৬৯১, তিন হাজারের অধিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা ৬৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নেপাল ও চীনে এখনো মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারের অধিক মানুষ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ভোতে-কোশি নদীর পানি বৃদ্ধি। সময় গড়ানোর সঙ্গে নদীটির পানি বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
হিমবাহ ধসের ঘটনায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মরদেহ সৎকারের আগে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
আরো পড়ুন: নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৬২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
এদিকে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টানেলে আটকে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেখানে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫০ জনের বেশি মানুষ।
গত কয়েক দিনের টানা বন্যা ও ভূমিধসে হিমালয়ের পাদদেশের এই অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য এলাকাগুলোতে বন্যার পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে বহু স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধার অভিযানও নানা বাধার মুখে পড়ছে।
