মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটের আসনগুলোর পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটের আসনগুলোর পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টায় দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্মন্টে প্রথম ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ভার্মন্টের পর স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, কেনটাকি ও মেইনসহ পূর্ব উপকূলীয় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে।
তবে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বা মেইল-ইন ভোট এবং আগাম ভোটদানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ফলে মঙ্গলবারের মূল ভোটগ্রহণের আগেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া দেশটির ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও এই ভোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হয়। ফলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাকি দুই বছরে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, আইন প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই নির্বাচনের ফল বড় প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন: বন্দুকধারীর হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য নিহত
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই দলটির প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাজেট অনুমোদন, সরকারি ব্যয়, অভিবাসননীতি, করব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে রিপাবলিকানদের। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে।
এ কারণে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কাছেই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন রাজনৈতিক শক্তি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফল শুধু কংগ্রেসের দলীয় ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে না, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফল প্রকাশ করা হবে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
