জামায়াত আমির
জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা প্রস্তুত, ঘোষণা যে কোনো সময়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। এর সাংবিধানিক মর্যাদা না থাকলেও সারাবিশ্বে আছে। উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় সংসদকে কেবল আনুষ্ঠানিক বিতর্কের জায়গা নয়, বরং জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে কার্যকর আলোচনা করার একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর সংসদ অপরিহার্য।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না হওয়ায় জাতীয় জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, জনগণের বড় একটি অংশ গণভোটে সমর্থন জানিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য উপস্থাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। জনগণ যে সংস্কারের প্রত্যাশা করেছে, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বিকল্প একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেছিল। সরকার কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিলসহ বিরোধী দলের কয়েকটি সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর চালুর প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়নই মূল বিষয় নয়; বরং সেটির বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি কার্যকরভাবে রোধ করা না গেলে অর্থ পাচারের ঝুঁকি থেকেই যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে করমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন সাময়িক আবাসন হিসেবে ব্যবহারে দলের কোনো আপত্তি নেই।
এ সময় তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় জামায়াত বিএনপিকে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছিল। পাশাপাশি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
