লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর দাফন, শনাক্ত হয়নি একজন
মসিউর ফিরোজ, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে একই ঘটনায় নিহত আরেক প্রবাসীর মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গত ১১ মে বাংলাদেশ সময় দুপুরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় বিমান হামলার শিকার হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর এলাকার শফিকুল এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি এলাকার নাহিদুল। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
পরে তাদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আজ ভোররাত আড়াইটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ দুটি পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকালে মরদেহ তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শেষবারের মতো তাদের দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় শত শত মানুষ। দুপুরের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে।
এদিকে একই দিন রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় নিহত হন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শুভ কুমার দাস। সংঘাতপূর্ণ এলাকার একটি সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় তিনি হামলার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তবে হামলার তীব্রতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো শুভ কুমার দাসের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে। জেলার তিন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে শুভ কুমার দাসের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
