সুন্দরবনে কোস্টগার্ড ও দুলাভাই বাহিনীর সংঘর্ষে একজন নিহত
বাবুল আকতার, খুলনা
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা সুন্দরবনের বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ড সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনায় শওকত সরদার নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামসহ ২ জন আহত হন।
বৃহস্পতিবার রাতে বনবিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নিহতের বিষয় স্বীকার করা হয়নি। সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ৩টায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৩ বনদস্যু গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে কোস্ট গার্ড একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান এখনো চলমান। অভিযান সমাপ্ত হলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
বর্তমানে উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও জানান, ডাকাতদলের সদস্যরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এবং নিকটবর্তী লোকালয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বিধায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের নিকট তথ্য প্রদানকারীর বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং পুরস্কৃত করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কয়রা ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন শিবসা নদীতে বিশেষ অভিযানে থাকা কোস্টগার্ডের বোট টাইফুন-১৭’র মুখোমুখি হয় জলদস্যু দুলাভাই বাহিনীর দুটি কাঠের বোট। এ সময় বোটে থাকা জলদস্যুরা কোস্টগার্ডকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। আত্মরক্ষার জন্য কোস্টগার্ড পাল্টা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে ডাকাত দলের একটি বোট ডুবে যায় এবং অন্যটিতে আগুন লাগে। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত দলের সদস্য শওকত সরদার নামের একজন নিহত হন।
কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার এজাজ সরদারের ছেলে তিনি। এ ঘটনায় বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবার সকাল দশটার দিকে বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় কোস্টগার্ড। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার সঙ্গে নিয়ে যান কোস্টগার্ড সদস্যরা।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল করীম জানান, শুক্রবার ভোর রাত চারটার দিকে গুলিবিদ্ধ শওকত সরদারের মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসে কোস্টগার্ড। সে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত এজাহার সরদারের পুত্র। অপর একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহেশ্বরীপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলামই বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান। একসময় সুন্দরবনের ত্রাস ছিল ‘ইলিয়াস বাহিনী’। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ইলিয়াসের বোনের স্বামী রবিউল বনদস্যুদের নতুন দল গড়ে তোলেন। স্থানীয় লোকজন এর নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বনের মধ্যে গোলাগুলি ও এক দস্যুর নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য নেই। কোস্টগার্ড বিষয়টি দেখছে।
