নড়াইলে ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে পিটিয়ে আহত
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নড়াইলে চোরাই রড কেনার অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে তার বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর আহত গফফার শেখ (৫০) নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রোববার (২৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও আহত পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২২ জুন রাতে নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জাহিদ শিকদারের বাড়ি থেকে তিন বান্ডিল রড চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন, একই গ্রামের রুকুর ছেলে সিয়াম ও শাহিদের ছেলে আরিফুল ওই রড চুরি করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, চোরাই রড একই এলাকার গফফার শেখের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছিলেন।
পরে রড ফেরত চাইলে সাইফুল ইসলাম তা মালিককে ফিরিয়ে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৮ জুন বিকেলে রামচন্দ্রপুর বাজারে আউড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহমুদ শেখের নেতৃত্বে একটি সালিস বৈঠক বসে।
আরো পড়ুন : আসলাম চৌধুরীর ফল প্রকাশ স্থগিত, শপথেও নিষেধাজ্ঞা
অভিযোগ রয়েছে, সালিসে সাইফুল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় ইউনিয়ন সদস্য মাহমুদ শেখ গফফার শেখকে বাদশার গ্যারেজ এলাকার মুদি দোকান থেকে ধরে আনার নির্দেশ দেন। ভ্যানচালক মো. কাদের তাকে সালিসে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সালিসে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গফফার শেখের স্ত্রী নার্গিস পারভীন বলেন, “আমার ছেলে রড কিনেছিল। পরে রডের মালিক ফেরত চাইলে সে তা ফিরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে রড বুঝিয়ে দেওয়ার পর মালিকেরও কোনো অভিযোগ ছিল না।”
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহমুদ শেখের নির্দেশে তার স্বামীকে দোকান থেকে তুলে এনে পথে মারধর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন সদস্য মাহমুদ শেখ বলেন, গফফার শেখ ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম সালিসে উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গফফারকে নিয়ে আসতে লোক পাঠানো হয়েছিল। তবে তাকে মারধরের ঘটনাও তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
