বেনাপোলে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু
শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে ভারতে ফেরার পথে গৌতম মিস্ত্রি (৫৬) নামে এক ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সংলগ্ন একটি বাস কাউন্টারের সামনে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত গৌতম মিস্ত্রি ভারতের কলকাতার কল্যাণ নগরের সূর্য সেন পল্লির বাসিন্দা। গত ২২ আগস্ট স্ত্রী ঝরনা মিস্ত্রিকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। পরে তারা বরিশালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবস্থান শেষে বুধবার সকালে ভারতে ফেরার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নিয়ে বরিশাল থেকে বাসে বেনাপোলে আসেন গৌতম মিস্ত্রি। বাস থেকে নামার পর কাউন্টারের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে ওই যাত্রীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে স্বামীর মরদেহ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী। বুধবার রাত পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় একটি ভ্যানের ওপর কফিনবন্দি মরদেহ নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে।
নিহতের স্ত্রী জানান, স্বামীর মরদেহ ভারতে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তিনি। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে মরদেহ ভারতে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়েছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ নিয়ে চেকপোস্ট এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ওই নারীর অসহায় পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে সহায়তা করা হয়েছে। মরদেহ পরিবহন ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক খরচের জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) সাইফুর রহমান জানান, মরদেহ ভারতে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মরদেহটি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে মরদেহ ভারতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
