নতুন মামলায় গ্রেপ্তার মমতাজ, আদালতে গাইলেন ‘বুকটা ফাইট্যা যায়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে দায়ের হওয়া মোক্তার হোসেন হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক মমতাজকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
শুনানির জন্য মমতাজকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি তৎকালীন সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মমতাজের আইনজীবী আব্দুস সালাম মোল্লা গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানিয়ে বলেন, তার মক্কেল উচ্চ আদালত থেকে ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। এছাড়া বর্তমান মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা সম্পৃক্ততার উল্লেখ নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, মমতাজ দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি আদালতকে জানান।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত মমতাজকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন কৌতূহলী ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের জনপ্রিয় গান ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’-এর অংশ গেয়ে শোনান। পরে উপস্থিত আরও কয়েকজনকে গানটির সুর তুলতে দেখা যায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুরের সুইমিংপুল ও ফায়ার সার্ভিস রোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন মোক্তার হোসেন। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
রাজনীতিতে মমতাজ বেগম প্রথমে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
